Posts

Showing posts from 2019

বঙ্গের প্রখর বাগ্মী ও সাহিত্যিক কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ - শিমুল হোসেন শূন্য

Image
          তার এমন সব অগ্নিঝরা লেখা আর বাগ্মিতায় ইংরেজ পাদ্রিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলো। মুন্সী মেহেরুল্লাহর প্রথম লেখা বই "খ্রীষ্ঠ ধর্মের অসারতা"(১৮৮৭) ও "রদ্দে খ্রীষ্ঠান" বইদুটি  সবচেয়ে বেশি কার্যকর যা ইংরেজ খ্রীষ্ঠান পাদ্রিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভূমিকা রেখেছিলো। মুন্সী মেহেরুল্লাহ ধর্মান্তরিত বেভারেন্ড জন জমির উদ্দীনকেও পুনরায় ইসলামের ছায়াতলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এসময় জমির উদ্দীন তার লেখা "মেহের চরিত" প্রবন্ধে মেহেরুল্লাহর ইসলাম প্রচার এবং পাদ্রিদের অপপ্রচার হতে যেভাবে মুসলমানদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহকে বলা হয় মুসলমানদের রামমোহন। কেননা রাজা রামমোহন রায় উনিশ শতকের প্রথমে হিন্দু সম্প্রদায়কে জাগিয়ে তুলে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর করে সমাজ সংস্কারে অবদান রেখেছিলেন। তেমনি উনিশ শতকের শেষের দিকে মুন্সী মেহেরুল্লাহ বিভ্রান্ত দিশেহারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলমানদেরকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহর লিখিত " হিন্দুধর্ম রহস্য ও দেবলীলা, বিধবা গঞ্জনা, বিষাদ ভান্ডার, মেহেরুল এসলাম, মুসলমান ও...

বঙ্গের প্রখর বাগ্মী ও সাহিত্যিক কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ - শিমুল হোসেন শূন্য

Image
            বঙ্গের প্রখর বাগ্মী ও সাহিত্যিক কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ             - শিমুল হোসেন শূন্য আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সাধক, বঙ্গের বিখ্যাত সুবক্তা, সমাজ সংস্কারক, বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান লেখক এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারক মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ। তিনি তার সমাজ সংস্কার ও বহুবিধ জনকল্যাণকর কর্মের মাধ্যমে সমাজে কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ হিসেবে পরিচিতি পান। মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ ১৮৬১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অবিভক্ত যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহুকুমার কালিগঞ্জ থানাধীন ঘোপ গ্রামে নানার বাড়িতে জন্ম নেন। তার পৈতৃক নিবাস যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলায়। তার পিতার নাম মুন্সী মোহাম্মদ  ওয়ারেস উদ্দীন। মাত্র সাত বছর বয়সে পিতার অকাল মৃত্যু এবং দারিদ্রতার কারনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তেমন সুযোগ হয়নি তার। তিনি পেশায় সামান্য একজন দর্জি ছিলেন। তবে জ্ঞান অর্ন্বেষণে তার প্রবল ইচ্ছা শক্তি ছিলো। মুন্সী মেহেরুল্লাহ শুধু মাত্র প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনের পর গভীর জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর অভিপ্রায়ে নিজগৃহ ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি মোসহাব উদ্দীন ...

ধূমপান: ধূমপানের ভয়াবহতা ও করনীয় - শিমুল হোসেন শূন্য

পর্ব-২ আমাদের বাংলাদেশে প্রচলিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৪ ধারা অনুযায়ী প্রকাশ্যে ধূমপানের ফলে জরিমানা হিসেবে অনধিক তিন শত টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য দ্বিগুন টাকা দিতে হবে। এছাড়া ১০ধারা অনুযায়ী সিগারেট, বিড়ি ইত্যাদি তামাকজাতীয় দ্রব্যের মোড়কে 'ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর' বা 'ধূমপান হৃদরোগের কারণ' লেখা বাধ্যতামূলক। তবে সত্যি বলতে প্যাকেটের গায়ে তা লেখা থাকলেও ধূমপায়ীর শাস্তি স্বরূপ জরিমানা আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। উক্ত আইনটি আরো কঠোর করে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দেশে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন বন্ধ ও বিদেশ হতে আমদানী নিষিদ্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি ধূমপান রোধে সব থেকে বড় অবদান রাখতে পারে সামাজিক সচেতনতা এবং ধূমপায়ী ব্যক্তির প্রবল ইচ্ছাশক্তি। ব্যক্তি, পরিবার, মহল্লা, ইউনিয়ন, জেলা থেকে শুরু করে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমগ্র রাষ্ট্র থেকে ধূমপান রোধ করা সম্ভব। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধূমপান নিষেধসহ এই সমস্ত স্থাপনা এলাকার দোকানপাটে বিড়ি সিগার...

প্রবন্ধঃ ধূমপান: ধূমপানের ভয়াবহতা ও করনীয় - শিমুল হোসেন শূন্য

Image
পর্ব-১              ধূমপান বাংলা শব্দ ধূম এবং পান শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত। ধূম অর্থ ধোঁয়া আর পান হলো গ্রহন বা পান করা। অর্থ্যাৎ ধূমপান হচ্ছে ধোঁয়া পান যা থেকে ধূমপান  শব্দ গঠিত। সাধারণত যে কোন দ্রব্যের পোড়া ধোঁয়া গ্রহন করলেই তা ধূমপান বলে গণ্য হয়। তবে প্রচলিত ধূমপান বলতে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য প্রক্রিয়াজাত করনের মাধ্যমে আগুনে পুড়িয়ে তা থেকে নির্গত ধোঁয়া শরীরে গ্রহন করার বিশেষ প্রক্রিয়াকে বোঝায়। ধূমপান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তা সবারই জানা। জানা সত্ত্বেও মানুষ ধূমপান করে শুধুমাত্র ধূমপানের ফলে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয় তা ধূমপায়ী পছন্দ করে। এই অনুভূতির প্রতি আসক্তিই তাকে বারবার ধূমপানে উৎসায়িত করে। ধূমপান একটি নিকৃষ্ট নেশা, কেন বলছি? ধর্য্যসহ পড়ুন। মানুষ মূলত দুই ধরনের ধূমপান করে থাকে। একটি হলো প্রত্যেক্ষ বা সক্রিয় ধূমপান এবং অপরটি পরোক্ষ বা নিস্ক্রিয় ধূমপান। কেউ নিজে ধূমপান করে এবং কেউ ধূমপায়ীর আশ-পাশে থাকার ফলে অনিচ্ছাকৃত পরোক্ষভাবে ধূমপান করে ফেলে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষই প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানে আক্রান্তের হার ব্যাপক। ...

কবি পরিচিতিঃ যশোরের কবি - শিমুল হোসেন শূন্য

Image
            শিমুল হোসেন শূন্য ১৯৯৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও মাতা লাইলা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে তিনি একমাত্র বড় পুত্র। তার ছোট তিনটি বোন। পিতার পৈত্রিক নিবাস কুষ্টিয়া জেলায়।                                     তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন "মধ্যবাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে"। অষ্টম শ্রেণী পাশ ২০০৬ সালে "বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়" থেকে। এবং ২০০৯ সালে "ছাতিয়ানতলা চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়" থেকে এস এস সি পাশ করেন। ২০১১সালে " নিউ মডেল কলেজ যশোর" থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২০১৫ সালে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স শেষ করেন। তিনি অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়ন কালেই প্রথম ২০০৬ সালে অল্প বয়সেই হাতে কলম তুলে নেন। তারপর থেকেই লিখে চলেছেন প্রতিনিয়ত। প্রেম দ্রোহ সহ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সামাজিক অনাচার ও অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতি...