বঙ্গের প্রখর বাগ্মী ও সাহিত্যিক কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ - শিমুল হোসেন শূন্য

         
তার এমন সব অগ্নিঝরা লেখা আর বাগ্মিতায় ইংরেজ পাদ্রিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলো।
মুন্সী মেহেরুল্লাহর প্রথম লেখা বই "খ্রীষ্ঠ ধর্মের অসারতা"(১৮৮৭) ও "রদ্দে খ্রীষ্ঠান" বইদুটি  সবচেয়ে বেশি কার্যকর যা ইংরেজ খ্রীষ্ঠান পাদ্রিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভূমিকা রেখেছিলো।
মুন্সী মেহেরুল্লাহ ধর্মান্তরিত বেভারেন্ড জন জমির উদ্দীনকেও পুনরায় ইসলামের ছায়াতলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এসময় জমির উদ্দীন তার লেখা "মেহের চরিত" প্রবন্ধে মেহেরুল্লাহর ইসলাম প্রচার এবং পাদ্রিদের অপপ্রচার হতে যেভাবে মুসলমানদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহকে বলা হয় মুসলমানদের রামমোহন। কেননা রাজা রামমোহন রায় উনিশ শতকের প্রথমে হিন্দু সম্প্রদায়কে জাগিয়ে তুলে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর করে সমাজ সংস্কারে অবদান রেখেছিলেন। তেমনি উনিশ শতকের শেষের দিকে মুন্সী মেহেরুল্লাহ বিভ্রান্ত দিশেহারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলমানদেরকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহর লিখিত " হিন্দুধর্ম রহস্য ও দেবলীলা, বিধবা গঞ্জনা, বিষাদ ভান্ডার, মেহেরুল এসলাম, মুসলমান ও খ্রীষ্ঠান তর্কযুদ্ধ" বইগুলো সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। তবে তার হিন্দুধর্ম রহস্য ও দেবলীলা এবং বিধবা গঞ্জনা বইদুটি তৎকালিন সরকার কতৃক বাজেয়াপ্ত হয়। মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ ১৯০৭ সালে ৭ জুন শুক্রবার জুম্মার সময় ৪৭ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরনীয় করতে ১৯৯৭ সালে তার ছবি সম্বলিত ডাক টিকিট ও স্মারক খাম চালু করা হয়। এছাড়া যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টাউন হল ময়দানকে "মেহেরুল্লাহ ময়দান" এবং তার গ্রামের উপরে স্থাপিত চুড়ামনকাটি রেলওয়ে স্টেশনকে "মেহেরুল্লাহ নগর" নামকরন করা হয়। তার স্মৃতির স্মরণে প্রতি বছর "মুন্সী মেহেরুল্লাহ ফাউন্ডেশন" কতৃক
"ছাতিয়ানতলা চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়" প্রাঙ্গনে এক মিলন মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বঙ্গের এই বাগ্মী কর্মবীরের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তিনি বাঙালির হৃদয়ে চিরদিন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

রচনাকাল:
০৬।১১।২০১৯ ইং

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা: চায়ের দোকানের রাজনীতি || শিমুল হোসেন শূন্য || সাহিত্য নির্যাস

কবিতা: সমকালীন নিলামি সুন্দরী || শিমুল হোসেন শূন্য || সাহিত্য নির্যাস

সনেট: স্বাধীনতা || শিমুল হোসেন শূন্য || সাহিত্য নির্যাস