প্রবন্ধঃ ধূমপান: ধূমপানের ভয়াবহতা ও করনীয় - শিমুল হোসেন শূন্য

পর্ব-১

            

ধূমপান বাংলা শব্দ ধূম এবং পান শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত। ধূম অর্থ ধোঁয়া আর পান হলো গ্রহন বা পান করা। অর্থ্যাৎ ধূমপান হচ্ছে ধোঁয়া পান যা থেকে ধূমপান  শব্দ গঠিত। সাধারণত যে কোন দ্রব্যের পোড়া ধোঁয়া গ্রহন করলেই তা ধূমপান বলে গণ্য হয়।
তবে প্রচলিত ধূমপান বলতে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য প্রক্রিয়াজাত করনের মাধ্যমে আগুনে পুড়িয়ে তা থেকে নির্গত ধোঁয়া শরীরে গ্রহন করার বিশেষ প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

ধূমপান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তা সবারই জানা। জানা সত্ত্বেও মানুষ ধূমপান করে শুধুমাত্র ধূমপানের ফলে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয় তা ধূমপায়ী পছন্দ করে। এই অনুভূতির প্রতি আসক্তিই তাকে বারবার ধূমপানে উৎসায়িত করে। ধূমপান একটি নিকৃষ্ট নেশা, কেন বলছি? ধর্য্যসহ পড়ুন।
মানুষ মূলত দুই ধরনের ধূমপান করে থাকে। একটি হলো প্রত্যেক্ষ বা সক্রিয় ধূমপান এবং অপরটি পরোক্ষ বা নিস্ক্রিয় ধূমপান। কেউ নিজে ধূমপান করে এবং কেউ ধূমপায়ীর আশ-পাশে থাকার ফলে অনিচ্ছাকৃত পরোক্ষভাবে ধূমপান করে ফেলে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষই প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানে আক্রান্তের হার ব্যাপক।

১৯৫০ সালে প্রথম রিচার্ড ডল নামক একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মেডিকেল জার্নালে একটি গবেষণায় ধূমপান ও ফুসফুস ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। এরপর ১৯৫৪ সালে ব্রিটিশ ডক্টরস স্টাডি নামক আরেকটি গবেষণায় ধূমপানের সাথে ফুসফুসের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
যেসব বস্তু অকাল মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায় এর মধ্যে তামাক শীর্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (CDC) সেন্টার ধূমপানকে বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করেছে। সিগারেটে প্রায় ৫৬টি ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে যা মানব শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। তামাকের নিকোটিন বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড, লিভার ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ধূমপানের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। ধূমপানের প্রভাবে প্রাথমিক ঝুঁকিই হলো বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার,
বিশেষত ফুসফুস ক্যান্সার,
কিডনির ক্যান্সার,
মূত্রথলির ক্যান্সার,
খাদ্যনালীর ক্যান্সার,
অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ও
পাকস্থলী ক্যান্সার। নারীর জরায়ু এবং স্তন ক্যান্সারের সাথেও তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের একটা সম্পর্ক রয়েছে।

বিংশ শতাব্দীতে তামাক প্রায় দশ কোটি ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়েছে। ২০১০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ লাখ মানুষ তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবে মারা যায়। যা সর্বমোট মৃত্যুর প্রায় ১০%। এছাড়া প্রায় ৬ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার। এর মধ্যে শিশুই বেশি যার সংখ্যা এক লাখ পয়ষট্টি হাজার। ধূমপানের ফলে নারীর গর্ভপাত ঘটে, গর্ভস্থ ভ্রুনেরও প্রভাব পড়ে। এছাড়া পুরুষের যৌন অক্ষমতার উপরেও ধূমপানের প্রভাব বিদ্যমান। ধূমপানের ফলে ধূমপায়ী নিজে আক্রান্ত এবং অন্যকেও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় তাই এর চেয়ে নিকৃষ্ট নেশা হয় না। ধূমপান মানেই বিষপান। একটি সিগারেটের তামাকে যে পরিমান নিকোটিন বিষ থাকে তা ইনজেকশনের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করালে মৃত্যু অনিবার্য।


Comments

Popular posts from this blog

কবিতা: চায়ের দোকানের রাজনীতি || শিমুল হোসেন শূন্য || সাহিত্য নির্যাস

কবিতা: সমকালীন নিলামি সুন্দরী || শিমুল হোসেন শূন্য || সাহিত্য নির্যাস

সনেট: স্বাধীনতা || শিমুল হোসেন শূন্য || সাহিত্য নির্যাস